নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা,২ফেব্রুয়ারি :- সম্বব্য প্রথম মহিলা পুরোহিত দ্বারা বিবাহ অনুষ্ঠিত হল উত্তর দিনাজপুর জেলার রায়গঞ্জে।সোমবা রাতে বিবাহের আসরটি বসেছিলো রায়গঞ্জের একটি ভবনে।রিতি মেনে পাত্র ও পাত্রীর চার হাত এক করলেন মহিলা পুরোহিত সুলতা মন্ডল।রায়গঞ্জের বীরনগরের বাসিন্দা পাত্রী ঋতুপর্ণা রায়ের ইচ্ছে ছিলো সমাজিক প্রথা ভাঙার,তিনি প্রথম চেয়েছিলেন মহিলারা যদি সব কাজ করতে পারেন তবে বিবাহ কেন দিতে পারবেন না!পাত্রীর ইচ্ছে অনুযায়ী পাশে দাঁড়ান পাত্র রাজা দে এরপর পাত্রীর বাবা কৃষ্ণা রায় ও মা শিপ্রা রায় মেয়ের এই ইচ্ছেয় সামিল হন এবং এই পুরুষতান্ত্রিক সমাজে একপ্রকার নতুন চিন্তার পথ খুলে দেওয়ার কথা ভাবেন।সেখান থেকেই এই মহিলা পুরোহিত দ্বারা বিয়ের আয়োজন করা হয়।
দক্ষিণ দিনাজপুর জেলার গঙ্গারামপুরে বাড়ি মহিলা পুরোহিত সুলতা মন্ডলের।বাংলায় এম.এ, বি.এড করে তারপর পৌরোহিত্যে এক বছরের ডিপ্লোমা কোর্স করেন।সুলতা মন্ডল জানান,’ আমি এটা শখে করি।বরাবর ইচ্ছে ছিলো সমাজকে নতুন কিছু বার্তা দেওয়ার যদিও আগে দলগত ভাবে আমরা মহিলারা মিলে বিবাহ দিয়েছি তবে একক ভাবে এটাই আমার প্রথম কাজ।আমি সমাজকে একটাই বার্তা দিতে চাইব মহিলারা যদি সব কর্মে নিযুক্ত হতে পারেন তবে পুরোহিত হয়ে বিবাহ সম্পন্নও করতে পারেন।’পাত্রী ঋতুপর্ণা রায়ও একই চিন্তা ভাবনায় দাঁড়িয়ে বলেন,’আমার ইচ্ছে ছিলো বিয়েটা মহিলা পুরোহিত দ্বারা হোক।আমি প্রথমে আমার হবু বরকে জানায় তিনিও আমাকে যথেষ্ট সমর্থন করে পাশে দাঁড়ান।বাবা ও মা রাজি ছিলেন অবশেষে আমরা এই কাজটি করতে পারছি।’ পাত্রী পেশায় একজন রায়গঞ্জ স্টেশনে রেলে কর্মরত এবং পাত্র একজন পশু চিকিৎসক।তাদের এই সুউচ্চ চিন্তা-ভাবনা এবং প্রকৃত শিক্ষায় এই সমাজের গোঁড়ামিকে ভেঙে দেওয়ার যে চেষ্টা তার জন্য অবশ্যই সাধুবাদ রইল।দাম্পত্য জীবন সুখের হোক এই কামনাও রইল।

No comments:
Post a Comment